চকরিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার গলদ, মজুদ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের ঘাটতি এবং কোথাও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবন ও পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শাহ আমির ফিলিং স্টেশনে ডিজেলের ঘাটতি রয়েছে ৭ হাজার ৫৭৫ লিটার। ছিদ্দিক আহমদ ফিলিং স্টেশনে এ ঘাটতি ৯ হাজার ৩৭৭ লিটার। সংশ্লিষ্টরা চাহিদা বৃদ্ধির কথা বললেও হঠাৎ করে এমন ঘাটতির কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা বিরাজ করছে আব্দুল মোনাফ সওদাগর ফিলিং স্টেশনে। গত ২৭ মার্চ থেকে পাম্পটিতে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কয়েকদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আশপাশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ বেড়েছে বহুগুণে। এতে সীমিত মজুদের পাম্পগুলোতেও দ্রুত জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
চকরিয়া পৌর ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ একেবারেই নেই। ঈদের আগে আসা সর্বশেষ চালান ইতোমধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে। তবে গত সোমবার আসরের পর থেকে পাম্পটিতে অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পেট্রোলের সরবরাহও শেষ হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল ও হালকা যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পরিবহন চালকরা অভিযোগ করেন, অনেক পাম্পে সীমিত আকারে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা সত্ত্বেও জ্বালানি না পাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়তে শুরু করেছে। পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক সূত্র জানায়, সরবরাহ চেইনে বিলম্ব, ডিপো থেকে সময়মতো জ্বালানি না পৌঁছানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে মজুদ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সংকটের অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় জোরদার, মজুদ পরিস্থিতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বাজার তদারকি বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।
ভোরের আকাশ/ র.ই