রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে নদীতীর ও সড়ক

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনী এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ বসিয়ে নদী থেকে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
এতে নদীর তীর ভাঙন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ স্থাপন করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব বালু আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বালু বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জসিম নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ পরিচালনা করছেন। রাতের বেলায় ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নিয়মিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতির ভাইপো পরিচয়ে মো. রোহান এবং স্থানীয় জসিমের নেতৃত্বে তারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিম সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যা পারেন করেন, আমি ক্যামেরায় কোনো বক্তব্য দেব না। আমার সঙ্গে নেতা আছে।”
এদিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. রোহান বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। হয়তো আমার নাম ভাঙিয়ে কোনো অসাধু চক্র এ ধরনের কাজ করছে।”
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজ বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কের নিচ দিয়ে যদি কেউ পাইপ বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি এবং সড়ক অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ভোরের আকাশ/ র.ই