পাথরঘাটার স্কুলে কীটনাশক আতঙ্ক: ৬ ছাত্রী হাসপাতালে

সকালটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক। রূপধন বন্দর আমেরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোচিং শেষে ক্লাসে ফিরছিল। হঠাৎ এক ছাত্রী পানির বোতল থেকে চুমুক দিয়ে মুখ থামিয়ে দেয়—গন্ধটা অদ্ভুত! মিনিট না পেরোতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সহপাঠীদের মধ্যে। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে—আরও কয়েকজন একই পানি ও খাবার খেয়ে বুকে জ্বালা, বমি ও মাথা ঘোরা অনুভব করছে।
মুহূর্তেই হাসি-আনন্দে ভরা ক্লাসরুম বদলে যায় আতঙ্কের কেন্দ্রে। শিক্ষকরা ছুটে এসে ব্যাগে রাখা পানির বোতল ও টিফিন বক্স পরীক্ষা করেন। গন্ধটা স্পষ্ট—এটা খাবার বা পানির স্বাভাবিক গন্ধ নয়, এটা বিষের গন্ধ। পরে ক্লাসের এক কোণ থেকে উদ্ধার হয় একটি বোতল, যেটিতেও তীব্র কীটনাশকের গন্ধ।
অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা হলো—আরিসা, তাসমিম, মনিরা, জান্নাতী, সাবিনা ও সুরাইয়া। তারা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণির কিশোরী। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে তাদের। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আল-আমিন জানান, “পাঁচজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির বলেন, “মনিরা ও সাবিনা প্রথমে আমাদের সতর্ক করে। এরপর আমরা নিশ্চিত হই যে খাবার ও পানি বিষাক্ত। তখনই হাসপাতালে পাঠাই এবং প্রশাসনকে খবর দিই।”
প্রাথমিক ধারণা, কোচিং চলাকালে অজ্ঞাত কেউ ক্লাসে ঢুকে কীটনাশক মেশানো পানি ও খাবার রেখে গেছে। ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন বোতলটি জব্দ করা হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকের চোখে এখনো আতঙ্কের ছাপ—“আমাদের সন্তানদের স্কুলেও যদি এমন বিপদ থাকে, তারা কোথায় নিরাপদ?”—বলছিলেন এক অভিভাবক কাঁপা কণ্ঠে।
ভোরের আকাশ/জাআ