কুড়িগ্রামে তিস্তার ভয়াল ভাঙন, দুই সপ্তাহে নদীগর্ভে ২৫ বাড়ি

চলতি বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি দফায় দফায় বৃদ্ধি ও হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রভাবে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ এবং পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের ব্যবধানে নদী ভাঙন অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এতে শতাধিক পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা ছবুর আলী বলেন, জীবনে ১৭ বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ পেলেও ভাঙন ঠেকাতে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা পাননি।
আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ২৫টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, শুধু ত্রাণ নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম হওয়ায় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তার পানি ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। সম্প্রতি মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআর কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ