শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

গাছে গাছে ফুটেছে আমের নতুন মুকুল। এক পশলা বৃষ্টির পর আমের মুকুলে নতুন প্রাণ ফিরেছে। দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টি যেন মুকুলকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বৃষ্টির পর মুকুল ঝরে পড়া কমেছে সেই সাথে ভালো ফলনের আশা জাগিয়েছে কৃষকদের মনে। 

বাগানগুলো এখন সোনালী-হলুদ মুকুলের সুগন্ধে ভরে উঠেছে। তবে ঝড়, অনাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন মুকুল বাতাসে ছড়াচ্ছে মিষ্টি ঘ্রাণ। বসন্তের নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। আর এ মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ-মৌ করছে প্রকৃতি। আমের মুকুলে তাই এখন মৌমাছির গুঞ্জন। 

মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা। এযেন সোনালী আর সবুজের সমারোহ। শীত শেষে রোদের চোখ রাঙ্গানি আর সোনালী মুকুলের সুবাস মনকে করে তুলছে আরও প্রাণবন্ত। এবছর সময়ের আগেই সোনালী মুকুলে ভরে গেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আমবাগান। 

উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব আম গাছেই আমের মুকুল ফুটেছে। গ্রামগুলোর মধ্যে খালি জায়গা, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনার গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে কেবলই আমের মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। 

মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। তবে, এই উপজেলায় ব্যণিজ্যিকভাবে আমচাষ না হলেও অনেক বাগান মালিক নিজ উদ্যোগে বাগান করছেন। বর্তমানে এই উপজেলাতে আবাদি জমিতেও আম চাষ শুরু হয়েছে। সমন্বিত বাগান পদ্ধতিতে আমগাছের সংখ্যাই বেশি। ব্যক্তি মালিকানায় এই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অনেক আমবাগান।

 বাগান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর সময়ের আগেই ফুটেছে আমের মুকুল। থোকা-থোকা আমের মুকুলে ভ্রমরের উপস্থিতি বেড়েছে। ভাল ফলনের আশায় অনেকেই কীটনাশক ছিঁটিয়েছেন। যেন মুকুল ঝড়ে না পরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে। 

আর এ কারণেই আশায় বুক বেঁধে বাগান মালিকরা শুরু করেছেন পরিচর্যা। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। এই এলাকায় সাধারণত আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাতি ও দেশি জাতের আমচাষ বেশি হয়।

 জানা গেছে, সদর উপজেলাসহ চাঁপাপুর, নশরতপুর এবং কন্দুগ্রাম ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ব্যণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে আমবাগান। আমচাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই আম বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। কেউ কেউ আবাদী জমির মধ্যেও লাগিয়েছেন আমগাছ। আবার কেউ আবাদী জমিতে গড়ে তুলেছেন ছোট বা মাঝাড়ি আমবাগান। অবশ্য অনেকেই আবার ছোট ছোট আমগাছ বাড়ির ছাদে বড় করে সেটিকে মাটিতে রোপণ করছেন।

 কন্দুগ্রাম ইউনিয়নের আমচাষী আবদুল গফুর জানান, ‘আমচাষ সহজ এবং সময়োপযোগী। পরিশ্রমও কম। দুই বিঘার একটি আমবাগান থেকে গত বছর ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবছর আমবাগানে শাক-সবজি চাষ করে বাড়তি আয় করছি। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। বাড়তি পরিচর্যা শুরু করেছি। ফলন ভালো হলে লাভবান হবো।’

 সান্তাহার মালশন গ্রামের আবু সায়েম এবং লকু কলোনীর ফজলুল হক জানান, ‘প্রায় মাসখানেক আগে থেকে আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। নিয়মিত পরিচর্যা করি। আশা করছি ভালো ফলন পাবো। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে।’

 তারা আরও বলেন, ‘দুই দিন আগের বৃষ্টিতে খুব উপকার হয়েছে আমের মুকুলের জন্য। কারন ধূলাবালি পরিষ্কার হয়েছে। সেই সাথে মশা ও মাছির উপদ্রব কমেছে। তবে বড় সমস্যা হলো ঝড় ও পোকা লাগা। ঝড়ে মুকুল পড়ে যায়। আর মুকুলে পোকা লাগলে তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টির মতো মাটিতে পড়তে থাকে। 

আবার মুকুল শুকিয়ে গেলেও আমের ফলনে বিপর্যয় ঘটে। সাধারণত ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা যায়নি। তাই আশা করছি, আমের বাম্পার ফলন হবে।’

 আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, ‘আম চাষে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। যার কারণে অনেকই এ পেশায় এগিয়ে আসছেন। বর্তমানে এই উপজেলাতে আবাদি জমিতেও আম চাষ শুরু হয়েছে। তবে, এই উপজেলায় ব্যণিজ্যিকভাবে আমচাষ না হলেও অনেক বাগান মালিক নিজ উদ্যোগে বাগান করছেন। আমের ভাল ফলন পেতে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

এজন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের অফিসাররা কাজ করছেন বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

ভোরের আকাশ/ র.ই

 

 

মুকুলে ঠাসা আম গাছআবদুল গফুর

শেয়ার করুন: