শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এক দিনেই হারাল ১২ শিশু

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

ঈদ, স্বাধীনতা দিবসসহ সাপ্তাহিক ছুটিতে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে।এই ছুটিতে  পর্যটকের ভিড় বাড়ার সাথে সাথে সৈকতে ঘুরতে আসা শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মূলত অভিভাবকদের অসতর্কতার কারণেই শিশুরা ভিড়ের মধ্যে দলছুট হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্কের সামনে ভিড়। ঈদের ছুটিতে সৈকতে শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে আশংকাজনক ভাবে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সৈকতের কলাতলী থেকে সুগন্ধা-লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারে অন্তত দেড় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে। এদিন ভিড়ের মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১২টি শিশু হারিয়ে যায়। এর আগে রোববার (২২ মার্চ) হারিয়েছিল ৩টি শিশু। গত দুই দিনে হারানো এই ১৫ শিশুর সবাইকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টা। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ছয় বছর বয়সি দুই শিশু লাবীবা ও ইলহাম। একই সময়ে নেত্রকোনার মাহাবুব আলম তার ৬ বছরের শিশু মাহাদী এবং নারায়ণগঞ্জের আক্তার হোসেন তার ১৩ বছরের শিশু আতিক মাহমুদকে হারিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের শরণাপন্ন হন।

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বাড়ৈ এবং সদস্য মোহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘক্ষণ সৈকতে মাইকিং করার পর চার শিশুরই অভিভাবকদের খুঁজে বের করেন এবং তাদের সন্তানকে বুঝিয়ে দেন। সন্তানকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিভাবকরা।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে আসা ইফতিখার ও কানিজ দম্পতি তাদের ১১ বছর বয়সি কন্যাসন্তানকে হারিয়ে ফেলেন। পরে আধা ঘণ্টা ধরে সৈকত ও ঝাউবাগান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

একই দিন বেলা পৌনে ২টায় সুগন্ধা সৈকত থেকে হারিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ১২ বছর বয়সি আয়ান মাহমুদ। বাবা-মায়ের সাথে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায় সে। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তায় এক ঘণ্টা পর সন্তানকে ফিরে পান বাবা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আয়ান হারিয়ে গেল বুঝতে পারিনি। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়া বেশির ভাগ শিশুর বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে মেয়ে শিশুর সংখ্যা বেশি।

এসআই সুব্রত কুমার বাড়ৈ বলেন, ‘৯৫ শতাংশ শিশু হারিয়ে যাচ্ছে অভিভাবকদের উদাসীনতায়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের সৈকতের বালুতে রেখে সমুদ্রের পানিতে গোসলে ব্যস্ত থাকেন। তখনই ভিড়ের মধ্যে শিশুরা হারিয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার এবং সৈকতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য তিনটি পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের  এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, গত এক বছরে ট্যুরিস্ট পুলিশ ৫৪৩ জন হারিয়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে হস্তে করা হয়েছে। 

ভোরের আকাশ/আ.র

কক্সবাজার সমুদ্রসৈক

শেয়ার করুন: