শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্র করতে এডিবির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ : অর্থমন্ত্রী

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, এডিবি কেবল নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের উন্নয়ন ও অর্থায়নের অংশীদার নয়; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের চলমান ও ভবিষ্যৎ বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এডিবির কারিগরি, আর্থিক ও নীতিগত সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এডিবিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পে বহুমুখী অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের প্রধান বন্দরনগরী নয়, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প, লজিস্টিকস, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে আয়োজিত National Dissemination Seminar on Integrated Growth Network Development (IGND) Initiative শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নকে কেবল সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। উন্নয়ন পরিকল্পনার শুরু থেকেই স্থানীয় বেসরকারি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় অংশীজনদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের বেসরকারি খাতকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশীদার করা গেলে শুধু বিনিয়োগ বাড়বে না, একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পরিধিও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

IGND উদ্যোগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেসরকারি খাত থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এত বড় একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের একক অর্থায়ন ও উদ্যোগের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়। শুরু থেকেই বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে যুক্ত করার পরিবর্তে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে প্রকল্পের বাস্তবতা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু সড়ক, সেতু, বন্দর বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে অর্থায়নের নতুন ও বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা, আধুনিক লজিস্টিকস সুবিধা নিশ্চিত করা, শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও কমপ্যাক্ট কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও প্রয়োজন। শিল্পাঞ্চল, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, হসপিটালিটি এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সমন্বিতভাবে গড়ে উঠলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যও চট্টগ্রাম আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। তবে শুধু সরকারি ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে কোনো শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ।

তিনি বলেন, যারা চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের চাহিদা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একইভাবে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চট্টগ্রামে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষায়িত অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু শিল্প ও উৎপাদন খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পাঞ্চলের আশপাশে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ব্যবস্থা, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সেবা খাতেরও দ্রুত বিকাশ ঘটবে। এর ফলে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে ব্যবসায়ী, পর্যটক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দরনির্ভর। তাই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে।

IGND প্রকল্পকে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধু সরকারি সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশি-বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিতভাবে যুক্ত করতে হবে। এতে প্রকল্পের অর্থায়নের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও নগর উন্নয়ন খাতে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং বিনিয়োগ সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করাই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ব্যবসা পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সেবা, দক্ষ জনবল, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনা শুধু একটি শহর বা একটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই অঞ্চলের উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী ও অন্যান্য এশীয় দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, শিল্পভিত্তি, মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুবিধাকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে এখন প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা। সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজ, শিল্প উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় অংশীজন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মতামত নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়বে এবং একই সঙ্গে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদী। উন্নয়ন প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা গ্রহণের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগ সক্ষমতাকেও কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বৃহৎ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উন্নতির আশা

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট Yingming Yang-সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিবির প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতা, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ, অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ভোরের আকাশ/রই 
 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

শেয়ার করুন: