নরসিংদীতে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব

ঋতুচক্রের পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন শীতের রাজত্ব। একটা সময় শীত আসলেই আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো নানা রকমের পিঠা তৈরির আয়োজন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত প্রায়। নরসিংদীর পলাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। শীতের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালির আবেগকে ধারণ করে নরসিংদীর পলাশে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে "পিঠা উৎসব-২০২৬"।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ উৎসবের আয়োজন করে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। উৎসবে স্থান পায় গ্রামবাংলার প্রচলিত ছাড়াও বিলুপ্ত প্রায় বাহারি পিঠা। এর মধ্যে ছিল দুধচিতই, দুধপুলি, কমলা পুলি, ইলিশ পিঠা, বউ পিঠা, পুলি পিঠা, নিমপাতা পিঠা, নকশি পিঠা, পানতুয়া পিঠাসহ শতাধিক রকমের পিঠা। পিঠা উৎসবে অংশ নেয় ১০টি স্টল। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসব চলে। বিলুপ্তপ্রায় পিঠাকে নতুন রূপে হাজির করতে পেরে খুশি স্টলে থাকা শিক্ষার্থীরা। পৌষের শীত উপেক্ষা করে পিঠা উৎসবের আনন্দে মেতে ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তাছাড়া এতে অংশ নেয় নানা পেশার মানুষও। কেউ ঘুরে দেখছেন, কেউবা পছন্দের পিঠাগুলো কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে এত পিঠা দেখতে পেয়ে পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।
পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আরিফ পাঠানের ভাষ্য, দেশীয় ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানা এবং লালন করার মানসেই এ পিঠা উৎসব। বাঙালির শত শত বছরের সমদ্ধ ইতিহাস প্রকাশ করে এ পিঠা উৎসব।
ভোরের আকাশ/র.ই