‘খালেদা জিয়া এদেশের মানুষের মনে চিরদিন গেঁথে থাকবেন’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মময় জীবন নিয়ে জেলা পর্যায়ে আলোকচিত্র সমাপনী প্রদর্শনী শুরু হয়েছে কক্সবাজারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষের সেবা করতে হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হয়। তার নেতৃত্বেই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে এবং এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ১০টায় সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় জীবনের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।
এসময় আরও বলেন, রাজনীতিতে নানা প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি কখনো আপস করেননি। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণে তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কক্সবাজারের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ও হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমি দান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তার মানবিক ভূমিকা তার মহানুভবতার প্রমাণ। তিনি সবসময় দেশের মাটি ও মানুষের কথা ভাবতেন।
তিনি ছিলেন সাহসের প্রতীক। তার ইন্তেকালের পর মানুষের ঢলই প্রমাণ করে তিনি কতটা প্রিয় ও মহান নেতা ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দর্শন আগামী দিনের রাজনীতিতেও পথ দেখাবে।
প্রদর্শনীতে বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক দুর্লভ স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি তার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামান্যচিত্রও প্রদর্শিত হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল ও নির্বাহী সদস্য অরণ্য পাশা।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী।
ইতোমধ্যে আটটি বিভাগীয় শহর ও বেগম জিয়ার জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি জেলায় এই প্রদর্শনী হয়েছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, দিনাজপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী, ফেনী, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম।
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের শুরুতে রাজধানীর জিয়া উদ্যান ও বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কেও বেগম জিয়াকে নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র