কমলনগরে কালভার্ট বন্ধ করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট বন্ধ করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক জমির মালিকের বিরুদ্ধে। এতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দ্রুত বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চরকাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত চর ফলকন সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি কালভার্ট। প্রায় ২০ বছর ধরে এই কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পানি এই কালভার্ট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরবর্তী তিনটি কালভার্ট অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ভুলুয়া নদীতে গিয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করা হলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি জমে ফসল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই কালভার্টটি বন্ধ করার আগে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চর ফলকন সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, মাদ্রাসার সামনের কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে মাদ্রাসার মাঠ দিয়েও পানি চলাচল করে। এ অবস্থায় কালভার্টটি বন্ধ করার আগে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সওকত হাওলাদার বলেন, প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনের বিকল্প পথ তৈরি না করে কালভার্টটি বন্ধ করা হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিদ্যমান কালভার্টটি বন্ধ করার প্রয়োজন হলে আগে উপযুক্ত স্থানে বিকল্প কালভার্ট নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসরাফিল বলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পানি এই কালভার্টসহ আরও তিনটি কালভার্ট অতিক্রম করে নদীতে গিয়ে পড়ে। তাই বর্তমান কালভার্টটি বন্ধ করার আগে অন্য স্থানে বিকল্প কালভার্ট নির্মাণ করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই বিদ্যমান কালভার্টটি বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বাহার ও জসিম বলেন, এখনই কালভার্টটি বন্ধ করা হলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ও কৃষির ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মোঃ ছায়েদ উল্ল্যাহ মাঝি বলেন, জায়গাটি সরকার থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছি আমার নিজস্ব। কালভার্টটি অন্য স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি পুরোপুরি কালভার্টটি বন্ধ করিনি; পানি চলাচলের জন্য কিছুটা পথ রেখেছি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাতুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
ভোরের আকাশ/সু.পা