টেকনাফে এপিবিএনের ওপর হামলায় আহত ৫, আটক ৬

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এপিবিএনের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ সময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং তাঁদের হাতে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা দুইটার দিকে টেকনাফের লেদা ২৪ নম্বর পুরোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে টেকনাফ মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও ক্যাম্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বি ব্লকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়। একপর্যায়ে আলীখালী এলাকা থেকে কয়েকজন স্থানীয় যুবককে ডেকে এনে একটি পক্ষের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় যুবকদের একটি দল সরে গেলেও রোহিঙ্গাদের একটি পক্ষ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তিন থেকে পাঁচজন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাতে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
লেদা ১৬ আর্মড ব্যাটালিয়ন এপিবিএনের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একদল সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও অপর পক্ষের তিন থেকে চারজন নারী-পুরুষ এপিবিএন সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালান। এতে পাঁচজন এপিবিএন সদস্য গুরুতর আহত হন।
তিনি বলেন, পরে ব্যাটালিয়ন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- নুর ফাতেমা (২১), হামিদা বেগম (১৮), মুবিনা খাতুন (৪১), হোসেন আহমেদ (৩৫), গুল তাজ বেগম (২৫) ও শাহাজাহান বেগম (২৪)। তাঁদের সবার বাড়ি লেদা ২৪ নম্বর পুরোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে।
হামলাকারী অন্যরা হলেন - ১/ রুবেল (২৫), পিতা- ইমান হোছন, ২/ জাহেদ (৩৫), পিতা- কামাল হোছাইন, ৩/ জুবাইর (২৫), ৪/ ইউনুস (১৮), ৫/ নুর ফাতেমা (১৯) উভয় পিতা - নাজির হোছন, ৬/ আছমা খাতুন (৪০)। তাদের সকলের বাড়ি বি ব্লক পুরাতন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
লেদা ২৪ নম্বর পুরোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পে কিছু নতুন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অনেকের ডাটা কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। এ কারণে তাঁদের কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে এক পক্ষ আলীখালী এলাকা থেকে কয়েকজনকে ডেকে এনে অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় যুবকেরা সরে যান। পরে রোহিঙ্গাদের একটি পক্ষ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, বি ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে ব্লক মাঝি না থাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর হামলা নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) খান শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।
তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের আটক এবং ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শীঘ্রই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এজাহার পাওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের দাবি, কিছু ব্যক্তির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদেরও নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভোরের আকাশ/রই