সিলেটে হামের ভয়াবহ প্রকোপ, ১৮৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ৩৬৯

সিলেটে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে তীব্র শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে রাখা হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। তবে এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত করা হয়। পরে মে মাস থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৫টি শয্যাও এ চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮৪ জন হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই হাসপাতালে মোট ১৮৫টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ৩৬৯ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের চিকিৎসার জন্য নতুন করে ১২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২১ জনে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে হামের সংক্রমণ শুরুর পর একাধিকবার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ কমছে না। টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
শয্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, রোগী এলে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় দুটি শয্যা একত্র করে চার শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শয্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
হামের চিকিৎসায় ওষুধপত্রের কোনো সংকট নেই বলেও জানান তিনি। সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সিলেটের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব