সীতাকুণ্ডে গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

শীতের জড়তা না কাটতেই আমের মুকুলের মৌ মৌ মনোমুগ্ধকর গন্ধে মনকে করে তোলে বিমোহিত যেন মধু মাসের আগমণী বার্তা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সকালের সোনাঝরা রোদ, রোদেলা দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেলে মুকুলের সৌন্দর্য বেড়ে বহুগুন।
বাগানের সারি সারি গাছের ডালপালায় শোভা পাচ্ছে শুধুই মুকুল। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে এ বছর বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার চাষিরা। মৌসুমের শুরুতেই মুকুল আসতে শুরু করেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। মুকুলের মৌ মৌ সুবাসিত গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপের আলো। বিগত বছরগুলোর সাফল্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। দেশি ৩ জাতের পাশাপাশি রয়েছে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপাল ভোগ, বারি-১১, ল্যাংড়া, ফজলী জাতসহ উন্নত মানের আম।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমগাছে দৃশ্যমান হচ্ছে মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের সমারোহ। চারিদিকে ছড়াচ্ছে সে মুকুলের মন পাগল করা ঘ্রাণ। মৌমাছিরা গাছের ডালে আসতে শুরু করছে মধু আহরণে। বাগান মালিক ও আমচাষিরা আশা করছেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটলে উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে আম চাষি ও বাগান মালিকেরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। অধিক মুনাফা ও চাষের উপযোগী হওয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উন্নত জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে বাগান করছেন চাষিরা। সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মধ্যম মহাদেবপুর শেখনগর এলাকা থেকে মো. আজিম উদ্দিন বাড়ির আঙ্গিনায় নিজেদের লাগানো গাছে মনোমুগ্ধকর ছড়া ছড়া মুকুল আসার বিষয়টি আনন্দের সাথে জানান।
নার্সারী ব্যবসায়ী জাফর ইকবাল রাজন জানান, প্রতিদিন উন্নত জাতের আমগাছের চারা সংগ্রহে নার্সারীতে ভিড় করছেন চাষিরা।
২নং বারৈয়াঢালার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা ডা. কমল কদর ও পৌরসভার আমিরাবাদ থেকে খাইরুল ইসলাম আকিজ তাদের লাগানো আমগাছে মনোমুগ্ধকর ছড়া ছড়া মুকুল আসার বিষয়টি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, শীতের জড়তা না কাটতেই আমগাছে অনেকটা অগ্রিম মনোমুগ্ধকর মুকুল আসা শুরু হয়েছে। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ তেমন না থাকায় এখনো পর্যন্ত মুকুল ও ফুলে আামগাছের ডালপালার সৌন্দর্য বেড়েছে বহুগুণ।
এ অবস্থায় উপজেলায় কাঙ্খিত ফলনের আশা করছেন তিনি।
ভোরের আকাশ/এনএস