শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে গাইবান্ধার বিভিন্ন পালপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটির ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী তৈরিতে দিন-রাত পরিশ্রম করলেও আধুনিক পণ্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় দুই শতাব্দীর এই শিল্প। বৈশাখী মেলাই এখন তাদের প্রধান ভরসা।

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে ঘিরে গাইবান্ধার বিভিন্ন পালপাড়ায় এখন যেন কর্মচাঞ্চল্যের ভিন্ন এক দৃশ্য। মাটির তৈরি নানান পণ্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার মৃৎশিল্পীরা।

সরেজমিনে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ তৈরি করছেন হাঁড়ি-পাতিল, দইয়ের পাতিল, পিঠার খোলা, বাটি, মাছ ধোয়ার পাত্র, মাটির ব্যাংক ও টেপা পুতুল। আবার কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, কেউ আগুনে পুড়িয়ে চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছেন এসব পণ্যে।

জানা গেছে, জেলার বহু পরিবার এখনও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে সারা বছর কাজের সুযোগ না থাকায় বৈশাখী মেলাকেই কেন্দ্র করে কিছুটা আয়-রোজগারের আশা করেন তারা।

সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী স্নিগ্ধা রানী বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে মাটির কাজ শিখেছি। বিয়ের পরও এই কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো বিক্রি হয় না। প্লাস্টিকের জিনিস আসায় মাটির কাজের কদর অনেক কমে গেছে।

একই এলাকার নারায়ণ বাবু পাল জানান, বাবার হাত ধরেই এ পেশায় আসা। আগে মাটির চাকে কাজ করতাম, যা ছিল খুব পরিশ্রমের। এখন কিছুটা মেশিনের ব্যবহার শিখেছি। তবুও আগের মতো চাহিদা নেই।

আরেক মৃৎশিল্পী বিধান পাল বলেন, এটি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। কিন্তু এখন এই কাজ করে সংসার চালানো কঠিন। খরচ বেড়েছে, লাভ কমেছে। তাই নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চায় না।

পালপাড়ার সুচিত্রা পাল বলেন, প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মাটির ব্যাংক ও খেলনা বানাচ্ছি। আগে অনেক বিক্রি হতো, এখন শুধু মেলার সময় কিছুটা বিক্রি হয়।

স্কুল শিক্ষক মোশাররফ মন্ডল জানান, আগে এই এলাকায় অনেক মানুষ মাটির কাজ করতেন। এখন তরুণরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। মাটির জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়াই এর মূল কারণ।

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। বৈশাখী মেলা ঘিরে সাময়িক চাহিদা বাড়লেও সারা বছরের চিত্র হতাশাজনক। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন ভোরের আকাশকে বলেন, 'যেহেতু তাদের এ পেশাটি বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশা। সেহেতু তাদের পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।'

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

স্নিগ্ধা রানীমৃৎশিল্পীরা

শেয়ার করুন: