বগুড়ায় ৭ বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৫, মৃত্যু ৯

বগুড়ায় গত সাত বছরে ৯৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ জন।
এর মধ্যে শুধু ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই ১৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনই সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা আহসানিয়া মিশনের বগুড়া কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৯৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।
শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এইচআইভির সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়। এভাবে অনেক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ মানুষ আগের তুলনায় এইচআইভি পরীক্ষা করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। তবে এ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
সভায় সারাদেশের এইচআইভি পরিস্থিতি তুলে ধরেন ঢাকা আহসানিয়া মিশনের (ডিআইসি) বগুড়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক খোন্দকার রেজাউল করিম। তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি হিজড়া ও যৌনকর্মীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধে কাজ করছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বগুড়ায় সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫২ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৯ জনকে এইচআইভি প্রতিরোধ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৬ সালে ১ হাজার ৭৯৪ জনের পরীক্ষা করে একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ডিআইসির পরীক্ষায় বগুড়ায় মোট ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুজন।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা জানান, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় এবং বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
সভায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ বলেন, বগুড়ার এইচআইভির পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। এটি এখনই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও প্রচার কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। সচেতনতা ছাড়া এ রোগের ভয়াবহতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণে এইচআইভি প্রতিরোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ কার্যক্রমে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনকে জানালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এসএম নুর-ই-শাদীদ। এ সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেগম মুস্তারী আকতার জাহান, মেডিকেল অফিসার সাজ্জাদ উল হক, স্কুল হেলথ ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার উম্মে সালমা শারিমন, ফারাহ উলফাতসহ চিকিৎসক ও ডিআইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৪ হাজার ৩১৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৬৬৬ জন।
ভোরের আকাশ/রই