জব্বারের বলীখেলায় হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ

এবারও কপাল পুড়ল গতবারের রানার্সআপ কুমিল্লার রাশেদ বলীর। তাকে হারিয়ে ১১৭ আসরে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন একই জেলার সেই বাঘা শরীফ। এর আগে ১১৫তম ও ১১৬ তম আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন বাঘা শরীফ। অর্থাৎ তিনবার আবদুল জব্বারের বলীখেলার শিরোপা জিতলেন তিনি।

ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে কুমিল্লার বাঘা শরীফ সঙ্গে একই জেলার রাশেদের। টানা ২৫ মিনিট বেশি সময় ধরে লড়াই। একপর্যায়ে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের বালুর মঞ্চে বাঘা শরীফ রাশেদকে কোমরে ধরে তুলে আছড়ে মারেন। আর তৎক্ষণাৎ তাকে জয়ী ঘোষণা করেন রেফারিরা।
রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে বাঘা শরীফ কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার, ২৫ এপ্রিল বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে বলীখেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।
এরপর শুরু হয় খেলা। বলীখেলার জন্য নাম নিবন্ধন করেন ১২০ জন বলী। সেখান থেকে ৮০ জনকে বলীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম রাউন্ডে উঠে ৩৫ জন। পরে ৮ জনের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়। সেখান থেকে ৪ জন সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।
ফাইনাল খেলা শুরু হয় বিখেল ৫টা ১৬ মিনিটে। এর আগে শুরু হয় কোয়ার্টার ফাইনাল। এতে অংশ নেয় ৮ জন। এরপর প্রথম সেমিফাইনাল। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শেষে শুর হয় তৃতীয় নির্ধারণী খেলা।
এবারের খেলায় তৃতীয় হয়েছেন রাজধানী ঢাকার সেনাবাহিনীর সদস্য দীপু বলি।
রাশেদ প্রথম সেমিফাইনালে খেলেন মিঠু বলীর সঙ্গে। মিঠুকে হারিয়ে রাশেদ ফাইনাল নিশ্চিত করেন।

এর আগে তীব্র রোদ ও তাপ উপেক্ষা করে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে। এসময় ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের।
করোনা মহামারীর কারণে দুবছর (২০২০-২১) আবদুল জব্বারের বলীখেলা হয়নি। এরপর ২০২২ সালে ১১৩তম আসরে কুমিল্লার শাহজালাল বলীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন। পরের বছর ২০২৩ সালে ১১৪তম আসরে কুমিল্লার জীবনকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন শাহজালাল বলী। এর আগে বলীখেলার ১১০তম আসরে কুমিল্লার শাহজালাল ও ১০৯তম আসরে চকরিয়ার জীবন চ্যাম্পিয়ন হন।
এদিকে খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপকে নগদ টাকা ও ট্রফি তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানসহ অতিথিরা।
প্রসঙ্গত, ১০৩ বছর আগে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এ প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর এ প্রতিযোগিতা জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ নগরের লালদীঘি মাঠে এ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র