শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। 

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, আবার কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার অংশে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পানি জমে থাকার কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর হয়েছে যে, দ্রুতগতির যানবাহন এসব গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর সেতুর ঢাল, চেংগাইন, মদনপুর, কেওটালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুরদী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেক সময় বাইরে থেকে গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় থাকছে না। ফলে চালকরা হঠাৎ গর্তের সামনে পড়লে যানবাহনের গতি কমাতে বা পাশ কাটাতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনও নিয়মিত এ মহাসড়ক ব্যবহার করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের সামান্য একটি গর্তও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হঠাৎ লেন পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সরেজমিনে দেখা যায়, গর্ত এড়াতে অনেক চালক হঠাৎ করে যানবাহনের লেন পরিবর্তন করছেন। এতে পেছন থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মহাসড়কে চলাচলকারী ভারী যানবাহন গর্তে পড়লে বিকট শব্দে গাড়ি দুলে ওঠে। এতে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ত এড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের হঠাৎ ব্রেক করতে বা পাশ কাটিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। মহাসড়কের কোথাও কোথাও একাধিক গর্ত পাশাপাশি তৈরি হওয়ায় মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। একটি গাড়ি গর্ত এড়াতে ধীরগতিতে চললে তার পেছনে থাকা অন্যান্য যানবাহনকেও গতি কমাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ কারণে মহাসড়কের যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

বৃষ্টির পর আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। বৃষ্টির পানি সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকায় পিচ ও কার্পেটিংয়ের নিচের অংশ নরম হয়ে গেছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরে ধীরে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে ছোট গর্তগুলো বড় আকার ধারণ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দিকে যেসব স্থানে ছোট গর্ত ছিল, সেগুলো দ্রুত সংস্কার না করায় এখন বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় গর্তগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও বাড়তে পারে।

চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত থাকায় গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা গর্তগুলো অন্ধকারে দেখা যায় না। ফলে চালকরা অনেক সময় শেষ মুহূর্তে গর্ত দেখতে পেয়ে যানবাহন ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ভারী যানবাহনের চাপও বড় কারণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক।

একই সঙ্গে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করায় সড়কের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মহাসড়কের কোনো একটি অংশে গর্ত তৈরি হলে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যায়। তাই শুধু গর্তে মাটি বা ইট দিয়ে ভরাট না করে টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালক ও স্থানীয়রা। দ্রুতগতির কোনো বাস, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান গভীর গর্তে পড়লে চালক নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন। একই সময়ে পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহন চললে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া গর্ত এড়াতে যানবাহন হঠাৎ লেন পরিবর্তন করায় পেছন থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে এমন পরিস্থিতি প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

স্থানীয় পথচারীদের মতে, মহাসড়কের পাশে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়ছে। যানবাহন গর্তে পড়লে পানি ও কাদা ছিটকে পথচারী ও দোকানের সামনে পড়ছে। কোথাও কোথাও গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলায় যানজটও তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনচালক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে গর্তের পরিমাণ আরও বাড়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন।

বাস চালক শুক্কুর মিয়ার দাবি, আপাতত যেসব স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, সেসব স্থানে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি যাতে দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে না থাকে, সে জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে। শুধু গর্ত ভরাট করে সমস্যার সমাধান হবে না; সড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিংয়ের টেকসই সংস্কার জরুরি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামনে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট—দুই ধরনের ঝুঁকিই বাড়বে।

আরও পড়ুন

রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত,দেড় ঘন্টা পড়ে চলাচল স্বাভাবিক

তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, গর্ত মেরামত এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “ “সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টির কারণে যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কিছু গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। তবে বৃষ্টির মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয় না। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে।”

ভোরের আকাশ/রই 

প্রকৌশলী আব্দুর রহিম

শেয়ার করুন: