প্রতি হাটে কোটি টাকার বাণিজ্য; দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে গাইবান্ধার হলুদ

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট এখন যেন হলুদের রঙে রাঙানো এক ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুর গড়ানোর আগেই হাটজুড়ে তৈরি হয় এক প্রাণচাঞ্চল্যকর পরিবেশ। সারি সারি বস্তা, হলুদের গন্ধ আর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশেই বসা এই ঐতিহ্যবাহী হাটে সপ্তাহে দুই দিন সোম ও বৃহস্পতিবার ভিড় করেন শত শত কৃষক, পাইকার ও আড়তদার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের পদচারণায় জমে ওঠে এই হাট।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি হাটবারেই এখানে কোটি টাকারও বেশি হলুদ কেনাবেচা হয়। ভোর হতেই কৃষকরা মাঠ থেকে তোলা কাঁচা ও শুকনা হলুদ নিয়ে হাজির হন হাটে। সময় যত বাড়ে, ততই বাড়তে থাকে বেচাকেনার চাপ। দরদাম, ওজন আর লেনদেনের ব্যস্ততায় এক সময় হাট যেন রূপ নেয় বিশাল এক বাণিজ্য মেলায়।
স্থানীয় কৃষক মাহাবুব মিয়া বলেন, ধাপেরহাট অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে প্রায় প্রতিটি কৃষকই এখানে কমবেশি হলুদ আবাদ করেন। ভালো ফলন ও ন্যায্য দামের কারণে হলুদ চাষ এখন তাদের জন্য লাভজনক একটি ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা থেকে হলুদ কিনতে আসা পাইকার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ধাপেরহাটের হলুদের মান ও রঙ অন্য অঞ্চলের তুলনায় উন্নত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা এখানে ছুটে আসেন। বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতি মণ হলুদ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকায়।
হাট কর্তৃপক্ষ খাজা মিয়া বলেন, গাইবান্ধার মোট হলুদ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে এই ধাপেরহাট এলাকা থেকে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার হলুদ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা এই হাটের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতি হাটে কোটি টাকার উপরে বেচাকেনা হয় এই হাটে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রোস্তম আলী বলেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে হলুদের উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এত বড় বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ধাপেরহাটে এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার বা আধুনিক গোডাউন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের পণ্য সংরক্ষণে পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সংরক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হলে ধাপেরহাটের এই হলুদের হাট শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও আরও বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
ভোরের আকাশ/এনউব