শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ যেন নেশা শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাসের

চলনবিল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ আগস্ট ২০২৫, ৭:৫৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো অন্যদের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে গাছের চারা পৌঁছে দিচ্ছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাস।  গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছে।

উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের শিমলা এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাস ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

জানা গেছে, ফয়সাল বিশ্বাস ২০২৩ সাল থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের হাত খরচের টাকা থেকে গাছের চারা বিতরণ এবং রোপণ শুরু করেন।  এজন্য তিনি পরিবার, বন্ধু, আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে উৎসাহ পান।  পরবর্তীতে তিনি বন্ধু বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অর্থে শুরু করেন বৃক্ষরোপন কার্যক্রম।

ফয়াসাল বিশ্বাস দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি ফলদ, বনজ ও ওষুধিসহ সুন্দর্য বর্ধক গাছের চারা বিতরণ এবং নিজের হাতে রোপণ করেছেন।  পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি বই পড়ে জানতে পেরেছি একজন পিতা যদি পৃথিবীতে নেক সন্তান রেখে যান, তাহলে ওই পিতা মৃত্যুর পরেও তার সন্তানের ভাল কাজের জন্য সওয়াব পাবেন।  আমার বাবা মারা গেছেন ৬ মাস হলো।  তিনি যেনো কবরে শান্তিতে থাকতে পারেন এটা ভেবেই আমি বিনামূল্যে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপন করে চলেছি।  বাবা আমাকে সব সময় ভাল কাজের অনুপ্রেরণা দিতেন বলেই তিনি আবেগ আপ্লূত হন।

এ পর্যন্ত শতাধিক ধর্মীয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করছেন এই শিক্ষার্থী।  তবে সরকার ও বৃত্তবানদের অংশগ্রহণে হয়তো এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়বে বলে জানান।

তিনি আরও জানান, আমি সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ বৃক্ষ রোপন করতে চাই।  ইতিমধ্যে যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী বৃক্ষ রোপনের আসবাপত্র, বৃক্ষ ক্রয়, অর্থ, শ্রম, সময়, বিতরণ ও রোপনে সহযোগিতা করেছেন তাদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসাদুল্লাহ খাঁন সজল বলেন, ফয়সালের এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।  বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ ঢাকা বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ডের ফুড ওভার ব্রীজের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বৃক্ষরোপণ করেছে।  যা একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ।

যেখানে মানুষ নানা ধরনের পোস্টার, ফেস্টুন লাগাতো, সেখানে আজ সারি সারি নানা প্রজাতির বৃক্ষের সভা পাচ্ছে।  মানুষ এমন ব্যতিক্রম কর্মকাণ্ড দেখতে এসে মুঠোফোনে ছবি তুলে সংরক্ষণ করছেন।  এমন কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করছি।

ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আকিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ফয়াল বিশ্বাস আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তার কাজটি আমার খুব ভালো লাগে।  আমাদের ছাত্র হিসেবে গর্ববোধ করি।  সে গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫০টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি শুনেছি শিক্ষার্থী ফয়াসাল বিশ্বাস অনেক আগে থেকেই নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপন  করছেন।  পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে ফয়সালের মতো মহৎ কাজে এগিয়ে আসা উচিত।’

ভোরের আকাশ/জাআ

চারা রোপণগাছের চারা বিতরণ

শেয়ার করুন: