‘কবি নজরুল মানবতার ও সাম্যের কবি’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের ভিতরের বৈষম্য দূর করে সাম্যময় মানব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সাহিত্য রচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নজরুল ছিলেন মানবতার কবি, প্রেম ও সাম্যের কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল চেতনা ছিল মানুষের মুক্তি, শোষণবিরোধী অবস্থান এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। মানুষের দুঃখ, বঞ্চনা ও অপমান তাঁকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল, তবে সেই বিদ্রোহ ছিল ধ্বংসের জন্য নয়, বরং মানবমুক্তির জন্য।
বক্তারা আরও বলেন, নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তাঁর মতো সত্য ও সাম্যের কবি শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয়, বিশ্বসাহিত্যেও বিরল। তাঁর অমর সাহিত্য আজও মানুষকে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও শোষণবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। তিনি তাঁর সারাজীবনের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের কথা বলেছেন এবং মানুষের কল্যাণ ও সমাজের মঙ্গলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। নজরুলের সৃষ্টি নতুন প্রজন্মকেও মানবিক সমাজ গঠনের পথে অনুপ্রাণিত করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল পরিষদ বগুড়া আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। সভাপতিত্ব করেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বগুড়ার আহ্বায়ক ওয়াহিদ মুরাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার আহ্বায়ক আসাদ হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব হাকীম এমএ মজিদ মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নজরুল পরিষদ বগুড়ার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কবি ও সাংবাদিক এইচ আলিম।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সাঈদ মালিথা ও উজ্জ্বল।
অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত শিল্পী স্বপন মুখার্জ্জিকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিশু শিল্পী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখায় আজমাইন আরহাম প্রান্ত ও সৌমিকা লাহিড়িকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আলোচনা সভার আগে সকালে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সঙ্গীত প্রশিক্ষক আসাদ হোসেন, কণ্ঠশিল্পী আব্দুস সালাম ও কণ্ঠশিল্পী আলমগীর কবির।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন সংবর্ধিত শিল্পী স্বপন মুখার্জ্জি, প্রণব কান্ত সান্যাল, শুক্লধর, প্রবাক বিশ্বাস ও সৌমিকা লাহিড়ি। কবিতা আবৃত্তি করেন প্রীতি দত্ত, লুবনা জাহান, আভা, প্রজন্ম সান্যাল ঋক, ঈপ্সিতা ও জয়ীতা মালাকার।
নৃত্য পরিবেশন করেন শতরুপা সান্যালসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ।
ভোরের আকাশ/ র.ই