সিংগাইরে ছুরিকাঘাতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় রাশেদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পোশাকশ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী হাসনার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হাসনা ভার্টেক্স নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ১২টি পরিবার মিলে দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। সেখানেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন রাশেদুল। প্রতিবেশীদের দাবি, পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেশী মুকুল হোসেন জানান, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চিৎকার শুনে তারা ঘর থেকে বের হন। এ সময় রাশেদুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রথমে তারা প্রবেশ করতে পারেননি। পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহতের ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তার মায়ের হাতে একটি ছুরি ছিল। অন্যদিকে নিহতের মেয়ে রুমাইয়া দাবি করে, কয়েক দিন আগে তার মা একটি ধারালো ছুরি আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ওই ছুরি দিয়েই তার বাবাকে আঘাত করা হয়েছে বলে সে অভিযোগ করে। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহালকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম-১ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভোরের আকাশ/আ.র