ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, আক্রান্ত ছাড়াল ১ হাজার

ফেনীতে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। বিশেষ করে আগস্ট থেকে অক্টোবর—এই তিন মাসে জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৫৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগী শনাক্ত হয়েছেন সেপ্টেম্বর মাসে। গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় সর্বোচ্চ ৪৯৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ২৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফেনী সদরে ১৪ জন, দাগনভূঞায় ২ জন, সোনাগাজীতে ১০ জন ও ছাগলনাইয়ায় ২ জন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেনীতে মোট ২০১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। চলতি বছর এ উপজেলায় মোট ৭৮৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ৯৯ জন, দাগনভূঞায় ৭৬ জন, ছাগলনাইয়ায় ৫২ জন, পরশুরামে ২৭ জন ও ফুলগাজীতে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭১২ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮৩ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন, দাগনভূঞায় ৪ জন, সোনাগাজীতে ২ জন, ছাগলনাইয়ায় ২ জন ও পরশুরামে ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের তদারকি ও মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ফেনীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ৩ হাজার ৯৬০টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৩ হাজার ২৫৭টি, ছাগলনাইয়ায় ৪২১টি, ফুলগাজীতে ১১৪টি, পরশুরামে ৭৯টি, সোনাগাজীতে ৭৩টি ও দাগনভূঞায় ২৬টি কিট রয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ