শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিলবয়রা গয়েশীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ মে ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

ভবনটির দিকে তাকালে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত পোড়াবাড়ি। জরাজীর্ণ দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর মরিচা ধরা টিনের চাল—সব মিলিয়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। কিন্তু এই মরণফাঁদের ভেতরেই চলছে শত শত শিক্ষার্থীর পাঠদান। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিলবয়রা গয়েশীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তটস্থ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৮ সালে জাতীয়করণ করা হলেও দীর্ঘ কয়েক দশকে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। পুরোনো টিনশেড ভবনটির অবস্থা এখন শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠছে। দেয়ালের বড় বড় ফাটল দেখে মনে হয় এই বুঝি ধসে পড়বে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আকাশে মেঘ জমলেই তাদের বুক দুরুদুরু করে। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে ক্লাস বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। গরমে ও বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষে টিকে থাকা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ে আসি। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছি না—এই দায় আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন না হলে যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের এমন নাজুক অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা বলছেন, প্রশাসন কি কোনো লাশের মিছিল দেখার অপেক্ষায় আছে?

শ্রেণিকক্ষ সংকটের কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতেই হবে।”

আরও পড়ুন

শ্রীপুরে পুকুরে ডুবে মারা গেছে দুই শিশু

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের আওতায় ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে নিতে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে আরও প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এই মৃত্যুফাঁদ অপসারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় বড় কোনো দুর্ঘটনার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

ভোরের আকাশ/এনউব

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

শেয়ার করুন: