নওগাঁ-১ : চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, এগিয়ে ধানের শীষ

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসনের গ্রামবংলার পথঘাট, হাটবাজার আর চায়ের দোকান সব জায়গাতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন। নির্বাচনে আর মাত্র বাকী ৫ দিন। ৪৮ ঘন্টা আগে শেষ হয়ে যাবে নির্বাচনী আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়ামতপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে ধানের শীষের প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠক। নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গ্রামের মোড়, মাইকিংয়ে শোনা যাচ্ছে ভোটের আহ্বান। প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে ধানের শীষ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভাবিচা ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে দলের বার্তা ও নানা প্রতিশ্রুতি। অনেক জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সন্ধ্যা নামলেই বসছে উঠান বৈঠক, গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসছে দ্রব্যমূল্য কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম ও আইন-শৃঙ্খলার মতো বিষয়।
এদিকে প্রচার-প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ, ছোট ভিডিও আর গ্রুপভিত্তিক প্রচারের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগে নেমেছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি, এবার নির্বাচনে তরুণদের ভোটই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই খেলাধুলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও চলছে প্রচার।
গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় তারা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন পাননি। তাই এবার অনেকে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোটের মাঠে যেতে আগ্রহী।
নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল বিলাশৈল গ্রামের কৃষক মোজাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে কেউ আসে না। প্রয়োজনে আমাদেরকেই যেতে হয়। আমার গ্রাম অবহেলিত। কেউ আমাদের কথা রাখে না। আমাদের এলাকায় সবারই ভোট আছে। তবে বিএনপি একটি বৃহৎ দল। ধানের শীষের ভোট সবচেয়ে বেশী। তবে ‘ধানের দাম আর সারের সংকট আমাদের বড় সমস্যা। যে দল আমাদের কথা শুনবে, আমরা তাকেই ভোট দেব। প্রার্থীদের এবার শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পোরশা উপজেলার কড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৪৬, নওগাঁ-১ আসনের জনগণ অত্যান্ত সৌভাগ্যবান। কারণ যারা নির্বাচন করছেন তারা প্রত্যেকেই কিন্ত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং ভালো মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা যারা আমাদের কথা ভাববে আমরা তাকেই ভোট দিবো।
পোরশা উপজেলা নিশকিনপুর গ্রামের নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পরিবারের নিরাপত্তা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎই আমাদের প্রধান ভাবনা। যে প্রার্থীরা আমাদের নিরাপত্তা দেবে আমরা এবার তাকেই ভোট দেব।’
নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক সফিউল্লাহ সোনার বলেন, ‘সতেরো বছর পর দেশে একটা অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। কোনো ধরনের সহিংস প্রচারণা আমরা চালাচ্ছি না।’
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে আমার নির্বাচনী এলাকায় সুশাসনের দিকে নজর দেব। প্রত্যেকটা সরকারী দপ্তর ঘুষ ও দূর্নীতিমুক্ত করবো। রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবক্ষেত্রে উন্নয়ন করবো।
নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩শ ৭৭জন এবং মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬শ ৮৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১শ ৬৬টি।
সব মিলিয়ে, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে, মহল্লায়, মহল্লায় ধানের শীষের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কর্মীদের তৎপরতা আর ভোটারদের কৌতূহল। ভোটের রায়ই বলে দেবে গ্রামবাংলার এই মুখরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
ভোরের আকাশ/আ.র