বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাপান শিক্ষা সেমিনার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান শিক্ষা সেমিনার-২০২৬’। জাপান ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (JUAAB) এবং বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে ছিলো দেশের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অডিটোরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম সরদার। JUAAB-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. জাফরুল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জনাব ইউ আওয়াগি। সেমিনারটির আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন JUAAB-এর সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আসাদুজ্জামান সরকার। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জাপান দূতাবাসের শিক্ষা বিশেষজ্ঞবৃন্দ এবং সম্প্রতি জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী নির্বাচিত ফেলোরা। অনুষ্ঠানে এমএস (MS) পর্যায়ের শিক্ষার্থী, JUAAB সদস্যবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ সর্বমোট আনুমানিক ৫০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা। সেমিনারে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষার সুযোগ, বৃত্তি লাভের সম্ভাবনা এবং জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, "জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হচ্ছে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব ইউ আওয়াগি জানান, দূতাবাসের সুপারিশে বৃত্তির আসনসংখ্যা সাধারণত দশটি বা তার কম হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। বিশেষ করে মাস্টার্স পর্যায়ে বৃত্তি পেতে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্স ও উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে ‘নাভি জাপান’-এর মতো তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ভোরের আকাশ/এনএস