সাটুরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসকের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে গোলাপ নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে ১৪ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই মামলায় তার বাবা লুৎফর রহমানকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দরগ্রাম বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সাটুরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমদ। অভিযানে সহায়তা করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা ওষুধ প্রশাসন।
জানা গেছে, গোলাপ ও তার বাবা লুৎফর রহমান কোনো ধরনের চিকিৎসা বিষয়ক ডিগ্রি না থাকলেও নিজেদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখে বহুদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি, তারা নিজেরাই প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ বিক্রি করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালায়। অভিযানকালে তাদের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায় এবং কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গোলাপকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং লুৎফর রহমানকে অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক সুলতানা রিফাত ফেরদৌস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনিরুজ্জামানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “গোলাপ ও তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। অনেক রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নিয়মিত এমন অভিযান চালানো প্রয়োজন।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোরের আকাশ/জাআ