জামালপুরে যুব দিবস পালিত

'দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ' এই প্রতিপাদ্যে জামালপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক, যুব কল্যাণ তহবিলের অনুদানের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রবিবার ( ১ নভেম্বর) সকালে বেলটিয়া বাজার থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে যুব অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় র্যালিটি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
জেলা প্রশাসক ও যুব অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আমরা যদি বাস্তবতা দেখি, একটি পরিবারে যদি পাঁচজন মানুষ থাকে, একজন রোজগার করে বাকি চারজন সেই রোজগারের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে বসে খায়।
তিনি আরো বলেন, এখন আপনি যদি এখানে বসে ভাবেন যে একজন রোজগার করে চারজন বসে বসে খায়। ওই পরিবারটি কখনোই সামনে এগোতে পারে না, পারবেও না। আমাদের বাংলাদেশের বাস্তবতা কিন্তু তাই।
আমি যদি এভাবে বলি যে এক সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখাটা দোষের কিছু না। আমরা যারা লেখাপড়া করি বা করেছি আমরা হয়তো কেউ ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি, আমি ভালোভাবে পাশ করে লেখাপড়া করে একটা চাকরি করবো এই স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি। যদি আমরা একটু বাস্তবতা অনুধাবন করি যে আমাদের বাংলাদেশের সরকারি চাকরি পদের সংখ্যা কত?
এমপি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা যদি আমরা ১৭ কোটি ১৮ কোটি ধরি আমাদের সরকারি চাকরির পদের সংখ্যা অনুযায়ী আমাদের চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। আমরা দেখি যে, একটা সার্কুলার মিলে যদি পদ থাকে ১০০, সেখানে আবেদন করে ১ লক্ষ। ১ লক্ষ আবেদনকারীর তো কোন অবস্থাতেই ওই ১০০ পদের কর্মসংস্থানে যেতে পারবে না। সেখানে ১০০ জনই যাবে।
এমপি আরও বলেন, আমাদের অধিকাংশ যুবক তরুণ আমরা নিজেদের চিন্তা নিজেরা করি না। নিজেরা স্বপ্ন দেখি না। এখানে আমাদের একজন বক্তা বলেছেন যে, স্বপ্ন দেখতে হবে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা যুব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী। সহকারী প্রশিক্ষক আহাজহারুল আলী'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম, জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের একশত প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
যুব ঋণের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিনজন যুব ও যুবনারীকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়।
এছাড়া সমাজ সেবা যুব উন্নয়ন সংস্থাকে মৎস্য চাষ প্রকল্পের জন্য ১ লাখ টাকা, শ্রেষ্ঠ মহিলা সোসাইটিকে সেলাই ও হস্তশিল্প, মৎস্য চাষ এবং হাঁস-মুরগি পালন প্রকল্পে ৭৫ হাজার টাকা, দৃষ্টি বাংলাকে আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৭৫ হাজার টাকা, এডভান্সমেন্ট সোসাইটিকে মৎস্য চাষ প্রকল্পে ৭৫ হাজার টাকা, দুর্বার যুব সমাজসেবা সমিতি (ডিজিএমএস)কে মৎস্য চাষ প্রকল্পে ৭৫ হাজার টাকা, সূর্য তোরণ যুব সমাজ সেবা সংস্থাকে ৭৫ হাজার টাকা, পল্লী কল্যাণ সংস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে ৭৫ হাজার টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
ভোরের আকাশ/ এনউব