কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের কমিটি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা যুবদলের নেতারা। নতুন কমিটিকে বিতর্কিত করতে পদবঞ্চিত একটি গোষ্ঠী ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত কমিটির নেতারা এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন কুষ্টিয়া জেলা যুবদলকে একটি তারুণ্যনির্ভর, শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কমিটি উপহার দিয়েছেন। নতুন কমিটি ঘোষণার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত ও বিতর্কিত একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের কাল্পনিক গল্পসহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো প্রামাণিক ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে অপপ্রচারকারীদের সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
ব্যাংকক সফর ও ছবি তোলার প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সভাপতি জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে অবস্থানকালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় এবং ছবি তোলা হয়। ওই স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্থ লেনদেনের কাল্পনিক গল্প ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
রাজনৈতিক অতীত ও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর রাজপথে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না কিংবা ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন—এমন দাবিও ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি নিয়ে মতভিন্নতা বা হতাশা থাকতে পারে। তবে প্রামাণিক তথ্য ছাড়া ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
পরিশেষে, কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদকর্মী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা