দুর্গাপূজার উৎসবের আমেজ
পীরগঞ্জে প্রতিমাতৈরি হচ্ছে নারী শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায়

আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আর পূজাকে ঘিরে রংপুরের পীরগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। পুরুষের পাশাপাশি নিজের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা ও অন্যান্য প্রতিমা গড়ে তুলছেন নারী প্রতিমা শিল্পী সুমিতা রানী রায়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দিন-রাত একাকার করে কাঠ, খড় আর মাটির সমন্বয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। বাঁশ-খড়ের কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দিয়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, কার্তিক, সরস্বতী, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত উপজেলার নারী শিল্পী সুমিতা। তার তুলির আঁচড় আর ছেনি-হাতুড়ির ছোঁয়ায় অপরূপ ধারণ করছে দেবী দুর্গার অবয়ব। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহ্যগতভাবে এই পেশায় পুরুষের আধিপত্য থাকলেও পীরগঞ্জের নারী শিল্পীর অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সংসারের নিত্যদিনের কাজ সামলেই মণ্ডপে-মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা তৈরীর মত কঠিন কাজে হাত লাগাচ্ছেন। মাটির কাজ শেষ হলে শুরু হবে রঙ-তুলির আঁচড় ও পোশাক-অলংকারে দেবীকে সাজিয়ে তোলার কাজ।
নারী প্রতিমা শিল্পী সুমিতা রানী জানান, দেবীকে নিজের হাতে রূপ দেওয়ার মধ্যে এক পরম আনন্দ ও ভক্তি রয়েছে। সময়মতো মণ্ডপে-মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দিতে আমি ও আমার পরিবারে সদস্য মিলে দিন-রাত প্রতিমা তৈরীতে শ্রম দিচ্ছি। এবার আমি দুই লক্ষাধিক টাকায় ১০টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি। এ ছাড়াও সারা বছর বিভিন্ন
পূজার জন্য প্রতিমা তৈরীর কাজ করি এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের কাজে লাগাই।
পীরগঞ্জ পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনীল পাল বলেন, পৌরসভায় ১০টিসহ গোটা উপজেলায় ৯৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পুজার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুধীর চন্দ্র বর্মণ জানান, এবার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নারী শিল্পীর তৈরি প্রতিমা মণ্ডপগুলোতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ভক্ত ও আয়োজকরা।
পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমূল হক জানান, ৯৬টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে ৬ থেকে ৮ জন করে আনসার ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়াও পুলিশের টহল টিম দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোরের আকাশ/আ.র