শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মামলার চাপ কমাতে গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করতে চায় সরকার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ জুলাই ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় ও টেকসই করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের সহযোগিতায় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আখতার জাহান বলেন, পারিবারিক ও স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তি করাই গ্রাম আদালতের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের বিরোধ স্থানীয়ভাবে সমাধান হলে পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট থাকে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং আদালতমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমে।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি করতে ‘এক্সিট প্ল্যান’-এর আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের কাছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা বাড়াতেও গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই চেয়ারম্যানদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও) নিয়মিত গ্রাম আদালতের শুনানি পর্যবেক্ষণ করবেন। মাঠপর্যায়ে বিট পুলিশও এ কার্যক্রম তদারকিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। গ্রাম আদালতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক বাজেট কোড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মমূল্যায়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে গ্রাম আদালত বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমে নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করে এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, অতীতের গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালতে মামলার সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে সরকার গ্রাম আদালতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বা স্বতন্ত্র পরিচিতির ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতে মামলা যাওয়ার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি যাচাই-বাছাই (চেকলিস্ট) ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও মতামত দেন।

স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে গ্রামীণ সমাজের কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও সাধারণ মানুষের সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব আগের মতোই রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তা বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে সরকার গ্রাম আদালতকে বিবেচনা করছে। তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে এ আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ হয়।

তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য মানুষ যেন দূরের আদালতের পরিবর্তে গ্রাম আদালতের ওপর আস্থা রাখে, সে জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। মানুষকে এ সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা গেলে এর সুফল দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নত দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বেশি শক্তিশালী। বাংলাদেশেও একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়তে হলে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। গ্রাম আদালত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন

টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশ থেকে ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকারের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, যুগ্ম সচিব রোকসানা খান, উপসচিব (আইন-১) ড. শাহেদ মোস্তফা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ সুব্রত দাশ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার, চট্টগ্রামের সকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আকতার, গ্রাম আদালত প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ভোরের আকাশ/এনউব

মামলার চাপ কমাতে

শেয়ার করুন: