শিরোনাম
হত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপহত্যা করা হয়েছে তাহসিফ সাউরিকে, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত পুলিশমাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতিররাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবাররোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

সালথায় বাঁশের সাঁকোয় মিলল স্বস্তি, কমল দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

একটি বাঁশের সাঁকো। ছোট্ট এই উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার দুই গ্রামের মানুষের। যে খাল পার হতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মাথায় নিয়ে কাদাপানি মাড়াতে হতো, শিক্ষার্থীদের যেতে হতো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে চলাচলের সহজ পথ। স্থানীয় মানুষের এমন ভোগান্তির কথা জানতে পেরে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ও তুগোলদিয়া গ্রামের সংযোগস্থলে গিয়ে দেখা যায়, খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁকোটি নির্মাণের ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ দৈনন্দিন চলাচলে আগের তুলনায় স্বস্তি ফিরেছে। ছোট পরিসরের এই উদ্যোগে খুশি দুই গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া খুব একটা লাগেনি। রাস্তাঘাটের অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও সরু হালট দিয়ে চলতে হয়।

কৃষকদের উৎপাদিত ফসল খালের পানির মধ্য দিয়ে কষ্ট করে পার করতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে। মানুষের এই দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে এনায়েত হোসেন নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এতে আমরা উপকৃত হয়েছি। ভবিষ্যতে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক পলাশ মোল্লা বলেন, আগে কাদাপানির মধ্য দিয়ে মাথায় করে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে হতো। ফসল নিয়ে খাল পার হতে গিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে। কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এর সুফল পাচ্ছে। আগে বিকল্প পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় ভুগছেন ইউসুফদিয়া ও তুগোলদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি ও কাদার কারণে চলাচল প্রায় দুরূহ হয়ে ওঠে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন পরিস্থিতিতে বাঁশের সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্থায়ীভাবে দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি পাকা রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গুতে ভয়াবহ অক্টোবর, প্রাণ গেলো ১৭৪ জনের

এ বিষয়ে যুবদল নেতা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু পদ-পদবি কিংবা নেতৃত্বের বিষয় নয়; মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি মাধ্যম। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এতে কৃষকদের কষ্ট কিছুটা কমলে, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারলে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হলেই তাঁর প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

তিনি আরও বলেন, বাঁশের সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এখানে একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: