খেজুর গাছ কীভাবে ধান হয়: রুমিন ফারহানা

"খেজুরগাছ কীভাবে ধান হয়"- বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর উদ্দেশে এমন প্রশ্ন রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুছনী গ্রামে এক পথসভায় তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে টানা প্রায় ২৫ বছর এই আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী ছিল না। কখনো জোটের প্রার্থী, কখনো জাতীয় পার্টির প্রার্থী, আবার ২০১৮ সালে দুর্দিনে মানুষ উকিল আবদুস সাত্তারকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও তিনি পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এতে বিএনপির হাতে কী অবশিষ্ট রইল।’
তিনি বলেন, ‘এবার ২৫ বছর পর যখন নির্বাচন আসল তখন নেতা-কর্মীদের একটাই দাবি ছিল, দলের প্রার্থী দেন। প্রার্থী তো দিল, কিন্তু তাকে ভাড়া করে আনা হলো অষ্টগ্রাম থেকে। যার মার্কাও ধানের শীষ নয়, খেজুরগাছ। আর এখন আমাদের শুনতে হচ্ছে ধানই নাকি খেজুরগাছ!’
উদাহরণ টেনে বিএনপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘আমি যদি বলি হাঁস হলো বাঘ, তাতে কি হাঁস বাঘ হয়ে যাবে? হাঁস হাঁসই, বাঘ বাঘই। খেজুরগাছ মরুভূমির, ধান আমাদের প্রাণ খেজুরগাছ কীভাবে ধান হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী নেতার সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। আপনারা আমাকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন। ভয় পেলে চলবে না, জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।’
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাটি ভরাট, দোকান দখল ও মামলা-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।’ অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সবাইকে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নিজেকে কোনো দলের নয়, বরং ঘরের মেয়ে হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির সাবেক এই নেত্রী।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়ে বিএনপি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
গত রোববার আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দোয়া মাহফিলে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সবাই মিলে যদি আমার খেজুরগাছটাকে ধানের শীষ বানান, আমি এমপি হব ইনশা আল্লাহ।’
ভোরের আকাশ/এসএইচ