সেই ভন্ড প্রেমিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, তদন্তে পিবিআই

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের গাড়াজান গ্রামের আমিরুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের পর এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফুলবাড়ীয়া থানার সিআর নং-৬১৭/২৩ মামলায় অস্ত্রসহ দাঙ্গা, হত্যা চেষ্টা ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোহাগের বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-২-এর সিআর নং-৩৩৪/১৪ মামলাতেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে রংপুরের কাউনিয়ার কগনিজেন্স আদালতে মামলা নং-১২০/২৬-এও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিমল চন্দ্র বর্মণ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগ, এর আগে সাদিয়া নামের এক নারী অভিযোগ করেন, সোহাগের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও পরে তিনি জানতে পারেন, এর আগে আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন তিনি। বিষয়টি বিয়ের আগে গোপন রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন সাদিয়া।
তার অভিযোগ, তার ছোট ভাই রিদওয়ান রিদুকে হাঙ্গেরিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নেন সোহাগ। পরে বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া আরও কয়েকজনের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সোহাগের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, ‘আমিরুল ইসলাম সোহাগ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ি ও কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। পরে মেসেঞ্জারেও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত বুধবার (১৯ আগস্ট) নিরাপত্তা চেয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম গত ৩১ আগস্টে পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান। পরে অভিযোগটি পিবিআই সদর দপ্তর থেকে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। তবে পিবিআইয়ে পাঠানো অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কী ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমিরুল ইসলাম সোহাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আমিরুল ইসলাম সোহাগের মা আয়েশা আক্তার লিপির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি তোমার যা খরচ লাগে দিমু, ভাইরাল কইরো না।” তবে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন, "ওর দুইডা হাত ভাঙ্গবো, ঠেং ভাঙ্গবো, যেন কলম না ধরতে পারে এই ব্যাবস্থা করবো"।
ভোরের আকাশ/ এনউব