পুকুরে বিষ প্রয়োগ, মরে ভেসে উঠল ২০ লাখ টাকার মাছ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীনের দুইটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাতে তাঁর নিজ গ্রাম সান্তাহার ইউনিয়নের কায়েতপাড়ায় এই ঘটানটি ঘটে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে পুকুর দেখ-ভালের দায়িত্বে থাকা লুৎফুর রহমান মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে নাজিম উদ্দীনেকে খবর দেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন জানান, বেশ কয়েকবছর ধরে তিনি চারটি পুকুর ভাড়া (লিজ) নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। এসব পুকুরে পাঙ্গাস, রুই, কাতল, দেশী টেংরা সহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ চাষ করেছেন। এতে তাঁর প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে।
ইতোমধ্যে মাছগুলো বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে। রাতে কে বা কারা তাঁর ৪টি পুকুরের মধ্যে ২টি পুকুরে বিষ দিয়েছে। সকাল বেলা পুকুরে মাছ ভাসতে দেখে পুকুরগুলো দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লুৎফুর রহমান তাকে খবর দেন। তিনি পুকুরে ছুঁটে এসে দেখেন মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাঁর।
তিনি আরও জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে একটি গোষ্ঠী তাঁর সাথে সবসময় শত্রুতা করে আসছিল। সেই প্রতিপক্ষরাই আমার পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ মেরেছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে না পেরে- আর্থিকভাবে ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করেছে। আমার প্রশ্ন, ‘এই মাছের কী অপরাধ ছিল?’
নাজিম উদ্দীন বলেন, আমরা প্রথমে গ্যাসের অভাবে মাছ মরে ভেসে উঠছে ভাবলেও-পরে বুঝতে পারি বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো- আমার ধারণা, এজন্যই হয়তো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আর্থিকভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। সন্ধ্যায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ভোরের আকাশ/এসএইচ