শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের কণ্ঠে নিরাপদে স্বদেশে ফেরার আকুতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা বাংলাদেশে স্থায়ী হতে আসিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।’—কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও রাখাইন থেকে গণবাস্তুচ্যুতির নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টি ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে নির্ধারিত সমাবেশস্থলে জড়ো হন।

এ সময় পুরো ক্যাম্প এলাকা ‘দুনিয়াত্তু বিচার চাই’ (বিশ্বের কাছে বিচার চাই) এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের মানুষ তাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তবে দীর্ঘ নয় বছর ধরে শরণার্থী শিবিরে অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান বক্তারা।

ক্যাম্প-৩-এর সাবেক হেডমাঝি মৌলভী রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের নিজের বাড়িঘর, ভিটেমাটি ও জমিজমা সব ফেলে এসেছি। দীর্ঘ নয় বছর ধরে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন—আমরা আর কতদিন এভাবে বেঁচে থাকব?’

নারী ও তরুণদের কণ্ঠেও একই ধরনের হতাশা ও স্বদেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। ক্যাম্প-৮-এর বাসিন্দা ছখিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ক্যাম্পের আবদ্ধ পরিবেশে বড় হচ্ছে। তারা নিজ দেশের মাটি চোখে দেখেনি। তাদের স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা স্বদেশে ফিরতে চাই।’

ক্যাম্প-৬-এর বাসিন্দা ইয়াসির ও তরুণ হামিদ বলেন, ক্যাম্পে সীমিত শিক্ষা ও কাজের সুযোগ তাদের ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে রোহিঙ্গা নেতারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রত্যাবাসনের জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

জমি ও বসতভিটার অধিকার: রাখাইনে কেড়ে নেওয়া নিজস্ব জমি ও বসতভিটার মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।

নিরাপত্তা ও স্থায়ী পরিবেশ: শুধু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিলেই হবে না; রাখাইন রাজ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা পুনরায় নির্যাতনের শিকার না হন।

আরও পড়ুন

রাঙামাটিতে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্যাম্পের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, তারা কোনো ত্রাণ বা অনুদানের ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভর করে বেঁচে থাকতে চান না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই তাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: