শেরপুরে আন্ডারপাস দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে বাড়ছে ঝুঁকি

বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারপাস অবৈধ দখল, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং উল্টো পথে যানবাহন চলাচলের কারণে কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মিত এসব আন্ডারপাস এখন যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে দিন দিন বাড়ছে অনিয়ম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ছোনকা, মির্জাপুর ও গাড়িদহ আন্ডারপাস এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোনকা আন্ডারপাসের নিচে অবৈধভাবে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি কোম্পানি ও খাবার হোটেলে প্রবেশের সুবিধার্থে ট্রাক, বাসসহ ভারী যানবাহন নিয়ম ভেঙে উল্টো পথে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
মির্জাপুর আন্ডারপাস এলাকায় অবৈধ দোকান না থাকলেও প্রায়ই পণ্যবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনটি আন্ডারপাসের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা গাড়িদহ এলাকায়। সেতুর দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মাইক্রোবাস স্থায়ীভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। একই স্থানে গড়ে উঠেছে একটি সেলুন। উত্তর পাশে বসেছে মাংস, ফল ও সবজির দোকান। এছাড়া আন্ডারপাসের নিচে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পুরো এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়া সত্ত্বেও এসব আন্ডারপাসে কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে অবৈধ দখল, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং উল্টো পথে যান চলাচল দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, "ছোনকা আন্ডারপাসের নিচে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান অপসারণ করা হয়েছে। উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া গাড়িদহ আন্ডারপাসের নিচে থাকা অবৈধ দোকানও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।"
ভোরের আকাশ/জেআ