মাতামুহুরী নদীর চোরাবালিতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে চোরাবালিতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুই কিশোরী সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে যায়।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল তিনটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা মৌলভীর চর গ্রামসংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে মাতামুহুরী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- মৌলভীর চর গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে মায়মুনা আক্তার (১৩) এবং আবদুর রহিমের মেয়ে ইফসা মণি (১১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সমবয়সী কয়েকজন কিশোরী একসঙ্গে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় মৌলভীর চর এলাকার নদীর ঘাট থেকে একটু সামনে যেতেই হঠাৎ তারা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এদের মধ্যে দুই কিশোরী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মায়মুনা ও ইফসা নিখোঁজ হয়ে যায়।
চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীতে গোসল করতে নেমে হঠাৎ স্রোত ও গভীর গর্তে পড়ে দুই কিশোরী তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত খোঁজাখুঁজি শুরু করলে কিছু সময় পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুর রহমান জানান, দুই কিশোরী তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে নামেন। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, নদীর ওই অংশে গভীর গর্ত তৈরি হয়ে চোরাবালির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই গর্তেই তলিয়ে যায় দুই কিশোরী। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা মৌলভীর চর এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। তাদের দাবি, ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে নদীতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চোরাবালির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, মাতামুহুরী নদীতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/নি