নড়াইলে এমপির অনুদানের তালিকায় নাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু’র ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের তালিকায় নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের জেলা আমীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেছেন, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)। ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস যখন এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে বলে জানান, আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে।
তিনি বলেন, আমি কোন অনৈতিক কাজে কখনও সমর্থন দেই না, তড়িঘড়ি করার কারণে এবং তালিকা আমি না দেখায় এমনটি হতে পারে। অনুদানের টাকা উত্তোলনের সরকারি সময়সীমা শেষের দিক থাকায় আমার স্বাক্ষরিত প্যাডে পিএস যে নাম তালিকা জমা দিয়েছেন পরবর্তীতে এটা দেখে আমি ক্ষুব্দ হয়েছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো আমি সমর্থন দেই না।আমার জীবনে জনপ্রতিনিধি হওয়া এটাই প্রথম।অজান্তে যদি ভূল-ত্রুটি হয়ে থাকে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই এবং জনগণের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু’র ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের তালিকায় দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া এমপির এলাকা ও আত্মীয় স্বজনের এলাকার লোকজনের নামও রয়েছে এই তালিকায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শুক্রবার (২৬ জুন) অনুদান প্রাপ্তদের নাম তালিকার একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পাওয়া অনুদান।
ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকুল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো: বাচ্চু এবং অপরটিতে মো: আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে অনেকেই ফেসবুকে মন্তব্য করেন।
এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, অনুদান বিতরণের আগেই আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনুদানের টাকাটা যে এসেছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো এসেছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। যে তালিকা তৈরি হয়েছে বিতরণ সে অনুযায়ী হবে না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।
অনুদান তালিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরুর পর একাধিক ব্যক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান, মানুষ ভূল ত্রæটির উর্দ্ধে নয়।আমাদের জানা মতে, আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি বিতর্কিত যে কোন ধরনের কর্মকান্ডের উর্দ্ধে থেকে সেবার মানষিকতা নিয়ে জনকলাণমূখী কাজ করে যাচ্ছেন।আগামিতেও এলাকার জনকল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি.এম.রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদানের টাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম