কমলনগরে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

"ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মঙ্গলবাবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে (স্পন্দন হলরুম) এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক র্যালি ও ফায়ার সার্ভিসের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাসাবাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ও শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কলাকৌশল এবং প্রদর্শনী (মহড়া) উপস্থাপন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা শীতকালীন অগ্নিকাণ্ড, গৃহস্থালি নিরাপত্তা, শিশু সুরক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। শুষ্ক মৌসুমে বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই রান্নাঘরে সকালের আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে রান্না শুরু করতে হবে, যেন জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ না ঘটে।
অনুষ্ঠানে শিশুদের পানিতে ডোবা বা সড়কে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ নজরদারি রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল না চালানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে যানবাহন না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
হৃদরোগ বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন সংকটাপন্ন মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্তে জীবন রক্ষা পায়।
আলোচনা সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মন্ডল বলেন,
সংকেত অনুযায়ী যদি আমরা সচেতন হই, তবে জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তবে প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট—যে দুর্যোগই হোক না কেন, নিজে সচেতন হওয়া এবং অন্যকে সচেতন করার মাধ্যমেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়িতে পুরোনো ও জীর্ণ বৈদ্যুতিক তার (ওয়্যারিং) পরিবর্তন না করা এবং সঠিক সচেতনতার অভাবে বহু অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রতিটি পরিবারে অন্তত একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাখা ও তার সঠিক ব্যবহার শেখার ওপর জোর দেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে বক্তারা উল্লেখ করেন, পড়াশোনা ও সামাজিক সচেতনতাই প্রকৃত অর্থে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে, মাদক ও জুয়ার মতো ব্যাধি দূর করে দুর্যোগ সহনশীল ও সুনাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা