সুনামগঞ্জে বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার হাওরগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করায় ভেসে উঠছে আবাদযোগ্য জমি। দুই উপজেলার কৃষকেরা বোরো মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাওরের মাঠজুড়ে এখন দ্রুতগতিতে চলছে বীজতলা তৈরির কাজ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা মিলিয়ে ১ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯৯০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শতভাগ বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হবে।
সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে আধুনিক চাষ যন্ত্রের পাশাপাশি প্রাচীন পদ্ধতিতে গরু দ্বারা চাষ করে কিছু কিছু এলাকায় বীজতলার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার কিছু কিছু মাঠে এখন কৃষক রোপা আমন সংগ্রহের পাশাপাশি বোরোর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বলছেন, বোরর বীজতলা তৈরির এখন ভরা মৌসুম।
কথা হয় কৃষক রহিছ মিয়া, জালাল উদ্দিন, হানিফ মিয়া ও মঞ্জু সরকারে সঙ্গে। তারা জানান, আমনধান সংগ্রহের পাশাপাশি বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব বীজতলার বোরো ধানের চারা রোপণ উপযোগী হলে বীজতলা থেকে উত্তোলন করে চারাগুলো পরবর্তীতে জমিতে আবাদ করা হবে। এ বছর বোরোর বীজতলা তৈরি উপযোগী আবহাওয়া রয়েছে।
মধ্যনগরের শালদীঘা হাওরের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, এ বোরো মৌসুমে বোরোধান আবাদের লক্ষ্যে তিনি ২২ শতক জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন। এ বছর বোরোর বীজতলা তৈরির জন্য আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ধানের চারা এ বছর ভালো হবে।
মধ্যনগর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, আগামী ১০–১২ দিনের মধ্যেই শতভাগ বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সময় মতো বোর ফসলের ধান রোপনে কাজ করতে পারবে কৃষক।
ভোরের আকাশ/মো.আ.