খান জাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরের নতুন ঠিকানা ডুলাহাজারা

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.)'র মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া শতবর্ষী কুমির ধলাপাহাড় এখন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে।
গত ১২ আগস্ট খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আনা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম।
তিনি বলেন, ধলাপাহাড়কে বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। পার্কের দিঘিতে সপ্তাহে একদিন তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। পার্কে আনার পরদিন কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছিল। এরপর তাকে আর খাবার খেতে দেখা যায়নি।
তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও তা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে নতুন পরিবেশে স্থানান্তরের পর কয়েক দিন খাবার না খাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় কুমিরের শক্তির চাহিদাও তুলনামূলক কম। শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ফলে জোর করে খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে খান জাহান আলী (রহ.) এর মাজারের দিঘিতে আনা ছয়টি কুমিরের মধ্যে এটিই বর্তমানে জীবিত থাকা শেষ কুমির।
এর আগে গত ১ জুন রাতে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমা মারা যায়। পরদিন ভোরে দিঘির পানিতে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়। এর আগে একটি কুকুরও কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঐতিহাসিকদের মতে, খান জাহান আলী (রহ.) দিঘি খননের পর সেখানে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সতীশ চন্দ্র মিত্রের ইতিহাস গ্রন্থেও কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় নামে দুটি কুমিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে খান জাহান আলী (রহ.) এর আমলের কুমিরের বংশধারা ২০১৫ সালেই শেষ হয়ে যায়।
ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ধলাপাহাড় নামে শতবর্ষী একটি কুমির মারা যায়। পরে দিঘিতে কুমিরের সংখ্যা কমে গেলে ২০০৪ সালের ২৬ জুন ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি মিঠাপানির কুমির এনে সেখানে অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কুমির মারা যায় এবং কয়েকটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ধলাপাহাড় নামের মাদি কুমিরটিই দিঘিতে টিকে ছিল।
সর্বশেষ শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গত ১২ আগস্ট বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে আনা হয় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। এখন এই পার্কের দিঘিই হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক ধলাপাহাড়ের নতুন ঠিকানা।
ভোরের আকাশ/রই