পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ইলিশের প্রাচুর্য, মানুষের ঘরে শূন্যতা!

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ট্রলারভর্তি টন টন ইলিশ উঠছে। ঘাটের পুরো এলাকা যেন মাছের সমুদ্র—পাইকাররা ঝুড়ি ভরে মাছ তুলে নিচ্ছেন এবং প্যাকেজিং শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু এই প্রাচুর্যের মাঝে সাধারণ মানুষদের ঘরে ইলিশের দেখা মিলছে না। দাম এত বেশি যে নিম্ন আয়ের মানুষ এখন ইলিশ কিনে খেতে পারছে না। পাথরঘাটা বিএফডিসি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য বন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও এখান থেকে শহরের ধনী মানুষদের কাছে ইলিশ যাচ্ছে, আর স্থানীয় সাধারণ মানুষদের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না।
রিকশাচালক হাবিব আক্ষেপ করে বলেন, “কবে যে ইলিশ খেয়েছি, এখন আর মনে পড়ে না। ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন সময়ে ইলিশ খেতে চাইলেও আমাদের সাধ্য নেই। ইলিশ এখন বড়লোকের খাবার হয়ে গেছে, আমাদের জন্য নয়।” দিনমজুর আসাদ উদ্দিনও বলেন, “মাছ ঘাটে সহজলভ্য, কিন্তু আমাদের জন্য দূরস্বপ্ন। আমাদের ঘরে ইলিশ ওঠে না, তাই ছোট মাছ বা অন্যান্য খাবার দিয়েই দিন কাটাই।”
পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বাজারে সিন্ডিকেট এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসার কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমাদের ইচ্ছে থাকে মাছ সবাইকে সমান দামে পৌঁছে দিতে, কিন্তু বাস্তবতা তা সম্ভব করছে না। ফলে সাধারণ মানুষ ইলিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইলিশকে সত্যিকার অর্থে ‘জাতীয় মাছ’ হিসেবে ধরে রাখতে হলে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা, রেশনিং বা সীমিত রপ্তানি নীতি দ্রুত কার্যকর করা জরুরি। তা না হলে বাংলার গর্ব ইলিশ ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হাতছাড়া হয়ে শুধু ধনীদের টেবিলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং একদিন হয়তো কেবল জাদুঘরের প্রদর্শনীতে দেখা যাবে।
ভোরের আকাশ/হ.র