মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতি ও সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩

মাগুরায় চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ডাকাতি ও পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
পৃথক দুটি মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, একটি টয়োটা গাড়ি, একটি গুলি, একটি খালি কার্তুজ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মজিবর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে মাগুরা সদর থানায় মামলা করা হয়।
ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশ পরিচয়ে একটি গাড়ি থামিয়ে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খন্দকার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মো. ফরিদুল মণ্ডল, মো. মিন্টু মোল্লা, মারুফ আলী, মো. গোলাম জাহিদ ও মো. মারুফ হোসেন।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভিন নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মো. মারুফ হোসেন, মো. গোলাম জাহিদ ও বশির আলী।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দুটি মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা ওজনের (৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম) স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার ব্র্যান্ডের দুটি মোটরসাইকেল, একটি টয়োটা গাড়ি, একটি গুলি ও একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুটি ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/রই