শ্রমিক অসন্তোষে
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৩ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ, যাত্রী দুর্ভোগ

ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন চায়না হার্ডওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ বিডি নামক একটি কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা।
এতে মহা সড়কের শিবালয় থানাধীন উথুলি সংযোগ মোড় থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ৩ ঘন্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুর একটার দিকে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দাবি দাওয়া পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে না নেওয়ায় আন্দোলন কারীরা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১১ টা পর্যন্ত বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহাসড়কের শিবালয় উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারী শ্রমিক তিশা জানান, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন সহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম করার পরও চীনা মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বস্ত করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। বাধ্য হয়ে আমরা কাজ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছি।
তিনি বলেন, গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করছেন না। কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া যৎ সামান্য মজুরিতে আমাদের সংসার চলে না। আমাদের দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।
হার্ডওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ এর কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে একজন কর্মকর্তাকে কারখানা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি সহ উল্লেখযোগ্য অন্যান্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, হার্ডওয়ার ইন্ড্রাস্টিজের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বুধবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। সময় প্রায় তিন ঘন্টা ঢাকা আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
এবিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা রানী কর্মকার জানান, আন্দোলনকারীদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো কারখানা কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ র.ই