ছেলে সেজে বিয়ের অভিযোগে তরুণীকে বেত্রাঘাত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছেলে সেজে আরেক তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে চাঁদনী আক্তার নামে এক তরুণীকে গ্রাম্য সালিশে মারধর ও বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো, তওবা পড়ানো এবং প্যান্ট-শার্ট না পরার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিশ বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
কাবিননামা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার ‘রাসেল’ নাম ব্যবহার করে গত ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সালিশে লাবনীকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর চাঁদনীকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সালিশ চলাকালে মাহফুজ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করেন। তাঁকে কান ধরে ওঠবসও করানো হয়। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, প্রায় ২০ মিনিট ধরে জনসমক্ষে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় পোশাক পরিধানের ধরন পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়।
সালিশে উপস্থিত থেকে চাঁদনীকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন মাহফুজ আহমেদ। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মাহফুজ আহমেদের দাবি, চাঁদনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, চাঁদনীর বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে নারীদের নিয়ে এসে অনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হতো। এ ছাড়া একজন নারী হয়ে আরেক নারীকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে চাঁদনীকে তওবা পড়ানো ও কাঁচা কঞ্চি দিয়ে শাসন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মতে, কোনো অভিযোগের বিচার বা মীমাংসার নামে কাউকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান মুঠোফোনে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। তবে এভাবে কেউ কাউকে মারধর করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে কিংবা অন্য কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হলে তার সমাধান আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সালিশের নামে কাউকে মারধর, অপমান বা জোরপূর্বক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা