সিরাজগঞ্জে ঝাড়ু হাতে হাসপাতাল পরিস্কার করছেন আরএমও ডা. শিমুল তালুকদার

চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শিমুল তালুকদার। শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না তিনি; বরং নিজেই ঝাড়ু ও ব্রাশ হাতে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কারে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এমন উদ্যোগে খুশি রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রয়োজন ৪২ জন। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী কম থাকায় দায়িত্ব পালনরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগও ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছেন আরএমও ডা. শিমুল তালুকদার।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উৎসাহিত করতে তিনি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দলগতভাবে কাজ করছেন। কখনো কর্মীদের পরিচ্ছন্নতার কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো নিজেই প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতে নিয়ে দেয়াল ও টয়লেটের বেসিন পরিষ্কার করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে পরিচ্ছন্নতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন ডা. শিমুল। রোগীদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনছেন। কোথাও ময়লা দেখতে পেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডেকে তাৎক্ষণিক পরিষ্কারের ব্যবস্থা করছেন। প্রয়োজন হলে নিজেও ঝাড়ু ও ব্রাশ হাতে কাজে নেমে পড়ছেন।
এ বিষয়ে ডা. মো. শিমুল তালুকদার বলেন, “সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী থাকেন। আমরা চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। হাসপাতাল মানেই শুধু ওষুধ ও অস্ত্রোপচার নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও চিকিৎসার অংশ। পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি চেষ্টা করছি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল উপহার দিতে।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। শহরের কলেজ রোডের বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, “আগে টয়লেটে ঢোকা যেত না। এখন দেখছি, আরএমও স্যার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরিষ্কার করাচ্ছেন। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
হাসপাতালের সহকারী ওয়ার্ড মাস্টার মো. সেলিম বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁরা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। তবে গত তিন মাস ধরে আরএমওর নির্দেশনায় দলগতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ কার্যক্রম চলায় আগের তুলনায় হাসপাতাল অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, “আমাদের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিমুল পুরো হাসপাতালের চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। তাঁকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত রোগীও দেখতে হয়। এরপরও তিনি পুরো হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে দল গঠন করে কাজ করছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ডা. শিমুল দুই ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করছেন। আমার জানা মতে, দেশে হয়তো এমন উদ্যোগ নেওয়া মেডিকেল অফিসার খুব কমই আছেন।”
ভোরের আকাশ/সু.পা