রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের অবহেলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল যাত্রীরা

স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় অল্পের জন্য রক্ষা পান ট্রেন যাত্রীরা। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার সরিষাবাড়ী স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ভূয়াপুরগামী ৩৭ আপ লোকাল ট্রেনটি সকাল প্রায় ৯টা ১৭ মিনিটে সরিষাবাড়ীর পূর্ববতী রেলওয়ে ষ্টেশন কেন্দুয়া কালিবাড়ী রেলওয়ে ষ্ট্রেশন থেকে আউট দেয়। পরে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে ষ্ট্রেশনের পয়েটসম্যান ইলিয়াস হোসেন সরিষাবাড়ী স্টেশনের আপ পয়েন্ট থেকে ২ নম্বর লাইনে ট্রেনটি রিসিভ করেন। পরে পয়েটসম্যান ইলিয়াস হোসেন অপ পয়েন্ট থেকে ডাউন পয়েন্টে পৌছানোর আগেই অপর পয়েসম্যান অন্তর মিয়া ষ্ট্রেশন থেকে ছাড়ার জন্য লাইন ক্লিয়ার দেন। ষ্ট্রেশন মাষ্টার আবুল কালাম হাওলাদার তার অধীনস্থ পয়েসম্যান অন্তর মিয়া কে দায়িত্ব দিয়ে তিনি অন্য কাজে মনোনিবেশ করার ফলে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে পয়েটসম্যান ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করেন।
ষ্টেশন মাষ্টারের পক্ষে অন্তর মিয়া দায়িত্ব পালন করতে ষ্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার জন্য লাইন ক্লিয়ার ছাড়াই ট্রেনটি ষ্ট্রেশন থেকে ছাড়ার জন্য লাইন ক্লিয়ার দেন। কিন্তু ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগের সময় নির্ধারিত লাইনের জন্য পয়েন্টস সঠিকভাবে সেট বা নির্দিষ্ট অবস্থানে স্থাপন করা ছিল না। এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, ষ্ট্রেশনের দায়িত প্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম হাওলাদার এর দায়িত্বে অবহেলার কারনে ২ নম্বর লাইনের পরিবর্তে ১ নম্বর লাইনের জন্য পয়েন্টস সেট অবস্থায় পূবের অবস্থার্য় রেখে দেন বলে অভিযোগ তুলেন পয়েসম্যান ইলিয়স মিয়া। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় ভুলভাবে সেট থাকা পয়েন্টের উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। এতে ট্রেনটি হঠাৎ থেমে যায় এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।
এ ঘটনার সময় রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সুইচ রেল বা লাইন পরিবর্তনের চলমান অংশ-এর পশ্চিমাংশের প্রায় ১০ ইঞ্চি ভেঙে যায় এবং পূর্বাংশের উপরের অংশ বাঁকা হয়ে ৩-৪ ইঞ্চি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ট্রেনটি পরে ধীরগতিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখে চলে যায়।এ ঘটনার বিষয়ে সরিষাবাড়ী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম হাওলাদার নিজের দায়িত্বে অবহেলার কথা স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যাগঞ্জ, যমুনা সেতু-পূর্ব রেলপথ জামালপুরের তদারকি কর্মকর্তা (পিডব্লিউআই) মো: মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পয়েন্ট ব্লাস্ট বা পয়েন্ট ভেঙে যাওয়ায় সুইচ রেলের একাধিক অংশ ভেঙে ও বেঁকে হয়ে গেছে। বর্তমানে যন্ত্রাংশের সংকট থাকায় সাময়িকভাবে জোড়াতালি দিয়ে লাইন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ের দুটি সুইচ রেল যন্ত্রাংশ নতুনভাবে প্রতিস্থাপনে ১টির জন্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সহ অপরটিও একই রকম ব্যায় সহ আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যার মধ্যে পরিবহন খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী মেরামত, দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/এনউব