ছোট ঘটনা যেন বড় না হয়, সজাগ থাকতে হবে, ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ছোটখাটো কোনো ঘটনা যেন বড় আকার ধারণ না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “ছোটখাটো যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলো যেন বড় আকার ধারণ না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা খালি হাতে লড়াই করে দেশের জন্য পথ তৈরি করেছেন। আর এখন রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে আইন-কানুন, প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাল্লাহ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রিয়েল টাইম মনিটরিং চালু রেখেছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকেন। বহিরাগতদের উপস্থিতি বা সন্দেহজনক তৎপরতা চিহ্নিত করতে তাদের তথ্য ও সোর্সকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।
ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি ভালো নির্বাচনের প্রধান শর্ত হলো ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত হবে। পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, ভেরিফাইড ভোটার কর্তৃক প্রদত্ত ব্যালট ছাড়া কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না। লাইভ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সে ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। তিনি এটিকে দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন উল্লেখ করে বলেন, কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়া নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
সভায় জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৪ ব্যাটালিয়নের সিইও মো. মোশারফ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সেনাবাহিনী লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর জিয়া উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভোরের আকাশ/র.ই