বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ভোটের কালি মোছবার আগেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কৃষক কার্ড আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। "কৃষক কার্ড থাকলে হাতে, সেবা পাবো সাথে সাথে" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ৮ টি বিভাগের ১১টি উপজেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পরপরই সীমান্ত উপজেলা কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫ জন কৃষক, কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রতিশ্রুতি রাখে। ভোটের কালি মোছবার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।
বিএনপি নির্বাচনী মেনোফেস্টো ও প্রতিশ্রুতির ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ইমাম- মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্ম গুরুদের ভাতা প্রদান , সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের ভাতা প্রদানের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ শক্তিশালী হবে, দেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য বাংলাদেশের কিংবদন্তিতূল্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সারাদেশে খালখনন কর্মসূচি শুরু করেছি। কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করেছি।
পহেলা বৈশাখে নববর্ষের প্রথম দিনেই কৃষক -কৃষাণীর মাঝে কৃষি কার্ড প্রদান জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত। এরই মাধ্যমে একজন কৃষক ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সুবিধা, সরকারী ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি বীমার সুবিধা, কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সামাজিক সচেতনতা শুরু হয়েছে। দেশকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করতে শীঘ্রই অভিযান শুরু করব। কক্সবাজার হতে মানবপাচার রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাছাড়া অপহরণ, জুয়া,অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে কৃষি বিভাগের পাইলট প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ১৬৯৮ জন কৃষক প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কৃষি কার্ড হাতে পাবেন। তৎমধ্যে কৃষক ১৪৬৩ ও কৃষাণী ২৩৫ জন। কার্ড পাওয়া টেকনাফের ভাগ্যবান কৃষকের মাঝে ১৬৮৩ জন শস্য চাষী, ২ জন মৎস্য চাষী, ১০ জন প্রাণিসম্পদ ও ৩ জন লবণ চাষী। এছাড়া নির্বাচিত কৃষক, কৃষাণীদের মধ্য হতে ১৬৫২ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক - কৃষাণী কৃষি প্রণোদনা পাবেন।
টেকনাফ এজাহার মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এমপি, লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
পরে প্রধান অতিথি স্থানীয় ১০ জন কৃষক ও ৫ জন কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও একটি করে ফলজ চারা বিতরণ করেন।
এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ