ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ

গাজীপুরের পূর্বাইল এলাকায় ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলেখা আক্তার রুনা (২০) নামে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জেল হাজতে পেরণ ও তার পরিবারের সদস্যকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পুবাইলের মাজুখান এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলে থাকা ভুক্তভোগী রুনার বড় ভাই সজল সিকদার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার বোন জুলেখা আক্তার রুনা উত্তরা টাউন কলেজের শিক্ষার্থী। সে পড়া লেখার পাশাপাশি মাজুখান বিউটি প্রডাক্টস বিডি নামের একটি প্রসাধনী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৫ বছর যাবত সুনামের সাথে চাকুরী করে আসছিল।
বিগত ৬ মাস পূর্বে কোম্পানীর মালিক রেজাউল করিম (৩৬) আমার বোনকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে হয়রানী করে আসছিল। আমার বোন তার কু-প্রস্তাবে রাজী না হয়ে সম্মান রক্ষার্থে চাকরি ছেড়ে দেয়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার স্ত্রীর অনুরোধে পূনরায় চাকরি নেওয়ার পর আবারও প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল আমার বোনকে কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ক্ষতি করার ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করে। এক পর্যায় আমার বোন গত ১৬ আগস্ট দুপুরের দিকে বাসায় চলে আসে কান্নাকাটি শুরু করে।
পরে সন্ধ্যায় আমার বোনের সহকর্মী মোঃ রুবেল প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল, রায়হানসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন আমাদের বাসায় এসে বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ আমার বোন ও মাকে থানায় নিয়ে যায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসি, স্থানীয় কাউন্সলর ও এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সমাধানের সময় দেওয়া হয়। পরে ১৯ আগস্ট বিকেলে ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে আমার বোন রুনাকে থানায় ডেকে নিয়ে ২০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ২১ আগষ্ট তাকে জেলে প্রেরণ করে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিউটি প্রডাক্টস বিডির মালিক মো: রেজাউল করিম বলেন, অভিযুক্ত রুনা আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিকাশ লেনদেনের মাধ্যমে যে পরিমান টাকা আত্মসাৎ করেছে তা দেখতে পেয়ে আমি নিজেও বিস্মিত হয়েছি। পরবর্তীতে সকল তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে পূর্বাইল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামি রুনা তার মায়ের যোগসাজশে বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। এমন তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে মামলা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ভোরের আকাশ/জাআ